মনোযোগ এবার ঘরের সাজে

রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে একজন ক্রেতা কৃত্রিম ফুল পছন্দ করছেন। ঈদের দিনে ঘর সাজাতেই এই কেনাকাটা। ছবি: সাইফুল ইসলাম
রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে একজন ক্রেতা কৃত্রিম ফুল পছন্দ করছেন। ঈদের দিনে ঘর সাজাতেই এই কেনাকাটা। ছবি: সাইফুল ইসলাম
শুধু নিজের সাজপোশাকেই ঈদ এখন সীমাবদ্ধ থাকে না। ঘরে নানা অতিথি আসবে। আড্ডা থেকে শুরু করে আপ্যায়ন—সবকিছুই চলবে। তাই ঘরটার সাজপোশাকেও নজর দিতে হয়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় অনেকেই ছুটছেন ঘর সাজানোর পণ্যের খোঁজে।

আড়ংয়ের ‘হোম ডেকোর’ কর্নারে দুজন বিক্রেতা গাঢ় সবুজ রঙের একটি বিছানা চাদর মেলে ধরেছেন। নিমা রহমান সেটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠেই নতুন চাদর বিছানো চাই। নয়তো ঘরটাকে ম্যাড়ম্যাড়ে লাগে।’
বিছানা চাদরের পাশাপাশি কেউ দেখছেন কুশন কাভার, কেউ বা নকশি কাঁথা, কেউ আবার সোফার কাভার বা জানালার পর্দা। বড় কুশন কাভারের চাহিদা বেশ। ‘হোম ডেকোর’ কর্নারের বিক্রেতা মানসুরা হক বলেন, ঈদ উপলক্ষে সোফা ও ডাইনিং টেবিল সাজানোর পণ্য মানুষ বেশি কিনছে। গত সপ্তাহ থেকে পোশাকের পাশাপাশি ঘর সাজানো পণ্যের কেনাকাটা বেড়েছে। বিছানার চাদর ১ থেকে ১০ হাজার টাকা, পর্দা পাঁচ শ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।
শোপিস, ক্রোকারিজ সামগ্রীর বিক্রি টুকটাক হলেও ঈদের দু-তিন দিন আগে বেশি বাড়বে। মানসুরা বলেন, এবার টেরাকোটা নকশার ক্রোকারিজ আনা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদাও ভালোই।
রাজধানীর নিউমার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডের ঘর সাজানো পণ্যের দোকাগুলোয় মানুষ ভিড়তে শুরু করেছে। শাহনাজ খাতুন প্রতি ঈদেই বসার ঘরে নতুন পর্দা লাগান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিউমার্কেটে এসেছেন পর্দার খোঁজে। সময়টা বর্ষা বলে সুতির মধ্যে হালকা নীল রং খুঁজছেন। সঙ্গে শতরঞ্জি নেবেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিনে সকালে নামাজ শেষে ছেলের বন্ধুরা আসে। বসার ঘরে আড্ডা দেয়। তাই এই ঘরটাকে সুন্দর করেই সাজাই।’
নিউমার্কেটের কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বিছানার চাদরের। তা ছাড়া কুশনও বেশ চলে। এ মার্কেটে বিছানার চাদরের দাম পড়বে ৬০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। পর্দা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে। আর কুশন কাভারের দাম দেড় শ থেকে সাড়ে তিন শ টাকা।
খুশির দিনের সকালটাতে অনেকেই বিছানায় নতুন চাদর বিছিয়ে থাকেন। ফুলেল নকশার বিছানা চাদর দেখছেন এক ক্রেতা। ছবি: সাইফুল ইসলাম
খুশির দিনের সকালটাতে অনেকেই বিছানায় নতুন চাদর বিছিয়ে থাকেন। ফুলেল নকশার বিছানা চাদর দেখছেন এক ক্রেতা। ছবি: সাইফুল ইসলাম
নিউমার্কেটের তাহমিদ বেডিংয়ের বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঈদে তো মানুষ কাপড়চোপড় বেশি কেনে। আমাদের বেচাকেনা কম হয়। তা-ও রোজার শেষ সপ্তাহে গিয়ে মানুষ কিছু কিনতে আসে।’
ক্রোকারিজের দোকানগুলোতে গ্লাস, চামচ আর ফিরনি সেটের চাহিদা বেশি। খান ক্রোকারিজের বিক্রেতা আলাউদ্দিন টিটু বলেন, ঈদুল ফিতরে ছোট ছোট ক্রোকারিজ সামগ্রী বেশি বিক্রি হয়।
তানিয়া ইসলামের বিয়ের পর এবারই প্রথম ঈদ। স্বামীর চাকরির জন্য ঢাকাতেই ঈদ করা হবে। ঈদের দিনে ঘরটাকে নিজের মতো করে সাজাবেন। নিউমার্কেট থেকে বেশ কিছু শোপিস কিনলেন। নেড়েচেড়ে দেখছিলেন প্লাস্টিকের ফুল ও ফুলদানি। সংসার নতুন হোক আর পুরোনো, ঈদের দিনটাতে ঘরের সাজেও নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে চান অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *